গণউদ্যোগ বালিকা উচ্চ বিদ্যান ও কলেজ লাকসাম-মনোহরগঞ্জ উপজেলায় উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে একমাত্র নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। গণমানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানের উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের সূচনা হয় ২০১১ সালে। ২০১৬ সালে কলেজটি সরকারি স্বীকৃতি অর্জন করে। দেশের গ্রামীণ জনপদের পশ্চাৎপদ নারীদের সুশিক্ষার মাধ্যমে মর্যাদাশীল ভবিষ্যৎ নির্মাণ করার প্রত্যয়ে এ প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়েছিল।
উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হল, শিক্ষার্থীদের মৌলিক জ্ঞান ও দক্ষতা সম্প্রসারিত ও সুসংহত করার মাধ্যমে উচ্চ শিক্ষার যোগ্য করে তোলা। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার ভিত্তি মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা। মাধ্যমিক স্তরের মেধাবী শিক্ষার্থীরা শহর কেন্দ্রিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানমুখী হওয়ার অপেক্ষাকৃত দুর্বল শিক্ষার্থীদের নিয়ে মফস্বলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। সবল-দুর্বল নির্বিশেষে সকলের জন্যই ‘গণউদ্যোগ’ এর দ্বার অবারিত। আমরা মাধ্যমিক স্তরের প্রান্তিক যোগ্যতার ঘাটতি পূরণের প্রচেষ্ঠার মাধ্যমে প্রথমত শ্রেণি উপযােগীকরণ ও পরবর্তীতে নিবিড় ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাদানের ব্যতিক্রমধর্মী নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। অনেক প্রতিকূলতা অতিক্রম করে আমরা কলেজ শাখায় মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের সকল বিষয়ের অভিজ্ঞ, মেধাবী, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের সমাহার ঘটাতে সমর্থ হয়েছি। আগামী শিক্ষাবর্ষে নিঃসন্দেহে এর ইতিবাচক প্রতিফলন থাকবে। একবিংশ শতাব্দীর অঙ্গীকার ও প্রত্যয়কে সামনে রেখে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের স্বতঃস্কুর্ত প্রয়াগ ও ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকল্প-২০৪১ এর লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমরা সচেষ্ট। বিশেষ করে পুরুষের পাশাপাশি নারীর সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও ক্ষমতায়নের নারী শিক্ষার্থীদের সক্ষম করে উচ্চ শিক্ষার বাস্তবতা তৈরির এ চ্যালেঞ্জ আমরা সচেতনভাবেই মােকাবেলা করতে চাই। ইতোমধ্যে ‘গণউদ্যোগ’ এর মেয়েরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন মেডিকেল কলেজসহ দেশের সেরা প্রতিষ্ঠানে উচ্চ শিক্ষার সুযােগ পেয়েছে। ২০১৫ ও ২০১৭ সালে উচ্চ মাধ্যমিক ফলাফলে ‘গণউদ্যাগ’ লাকসাম, মনােহরগঞ্জ উপজেলায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে। ২০২০ সালে এইচ.এস.সি ও ২০২১ সালে এস.এস.সি এবং এইচ.এস.সি বোর্ড পরীক্ষায় শতভাগ পাশসহ ২০২২ সালে এইচ.এস.সি পরীক্ষায় ১৯টি এ+ প্রাপ্তির গৌরব অর্জন করেছে। এতে আমরা অনুপ্রাণিত। আশা করি অতীতের মতো এবারও এস.এস.সি ও দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নারী শিক্ষার্থীরা ভর্তির প্রথম বিবেচনায় গণডদ্যোগ কলেজকে বেছে নেবে। লাকসাম-মনাহরগঞ্জ-নাঙ্গলকোট উপজেলায় নারী শিক্ষার প্রসারে “গণউদ্যোগ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ”-কে বাতিঘর হিসেবে গড়ে তােলার প্রচেষ্ঠায় এলাকাবাসী সর্বাত্মক সহযােগিতা নিয়ে এগিয়ে আসবেন-এই আমাদের প্রত্যাশা।
গণউদ্যোগ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ লাকসাম-মনোহরগঞ্জ-নাঙ্গলকোট উপজেলার তথা দক্ষিণ কুমিল্লার এক অনন্য ব্যতিক্রমধর্মী নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। রাজনীতি মুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত ও ধূমপান মুক্ত এ প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ গভর্নিং বডি দ্বারা শতভাগ নীতি নৈতিকতার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি সমাজের পশ্চাৎপদ নারীদের মেধা বিকাশে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকের সম্মিলিত প্রয়াস অব্যাহত রেখেছে। শতভাগ ফলাফল অর্জনসহ ,
জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিভিন্ন শাখায় উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে রাখছে বিশেষ অবদান। এ প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২২ ও ২০২৩-এ উপজেলা পর্যায়ে পরপর দুইবার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান, শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক ও শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ফলে প্রতিষ্ঠানটি এখন দক্ষিণ কুমিল্লার নারী শিক্ষার ব্র্যান্ড ও তীর্থস্থান হিসেবে মর্যাদা পাচ্ছে। আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের পাশাপাশি সুশীল সমাজ ও সুনাগরিক গড়ে তোলার প্রয়াসে কাজ করে যাচ্ছে এ প্রতিষ্ঠানটি। তারই ধারাবাহিকতায় প্রাতিষ্ঠানিক সকল কর্যক্রম আরো গতিশীল করতে গণউদ্যোগ শিক্ষা পরিবার সংস্থাপন করেছে স্কুল ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার। যাতে রয়েছে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইটসহ অনলাইন কার্যক্রমের নানাবিধ সুবিধা। আশা করি, তথ্যপ্রযুক্তির ছোঁয়ায় প্রতিষ্ঠানের অপ্রতিরোধ্য সমৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। তাই গণউদ্যোগ শিক্ষা পরিবারের সকল শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। যাদের নিরলস কর্ম-প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি আজ এ পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। সেই সাথে প্রতিষ্ঠানটির উত্তরোত্তর ভবিষ্যৎ সাফল্যে সকল হিতাকাঙ্ক্ষীদের নিকট আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।
সময়টা ছিল ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সাল। সে সময় দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কয়েকজন উজ্জীবক কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়নের পিছিয়ে পড়া মানুষদের জাগ্রত ও সংগঠিত করে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এ কাজের নেতৃত্বে ছিলেন দ্বিতীয় ব্যাচের উজ্জীবক গোলাম রাব্বানী মজুমদার এবং সৈয়দ ওমর আহাম্মদ।
আজকের বিশ্বে লিঙ্গ সমতা ও শিক্ষা উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত। তাই এলাকার মেয়েদের জন্য একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার লক্ষ্যে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর উজ্জীবক ও সংগঠকগণ এগিয়ে আসেন। সবাই কাজে নেমে পড়েন, আশার দরজাও খুলে গেল। দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ও এলাকার সন্তান ড. বদিউল আলম মজুমদারের নিকট বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
গণজাগরণে বিশ্বাসী ড. বদিউল আলম মজুমদার এক পর্যায়ে এই মত দেন যে, এলাকার সবাই যদি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চান, তাহলেই তিনি ২ একর জমি কিনে দিতে সম্মত আছেন।
সংগঠকগণ বিপুল উৎসাহে নেমে পড়েন। এলাকার বিভিন্ন গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সহায়তায় নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার লক্ষ্যে গণজাগরণ সৃষ্টির কাজ শুরু হয়। এলাকার বিভিন্ন গ্রামে ১৭টি ছোট বড় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ খিলা বাজারের উত্তর পাশে উন্মুক্ত মাঠে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় ড. বদিউল আলম মজুমদার-সহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। ঐ সভায় এলাকায় একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এরপর ১৯৯৫ সালের এপ্রিল-মে মাসে ক্রয়কৃত জমিতে উজ্জীবক ও স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে মাটি ভরাটের কাজ শুরু হয়। উন্নয়ন কার্যক্রমের এক পর্যায়ে এগিয়ে আসেন ড. বদিউল আলম মজুমদারের সহধর্মিণী তাজিমা হোসেন মজুমদার ও তাঁর পরিবারের সদস্যবৃন্দ এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন লাকসাম থানা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম মজুমদার, প্রয়াত ডা. গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হক মজুমদার, প্রয়াত আব্দুল জলিল খলিফা, আবদুল বারী প্রমুখ। এছাড়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ মহতী কর্মযজ্ঞে অংশগ্রহণ করেন। শুরু হয় নতুন এক অধ্যায়, নতুন এক সংগ্রাম।
গ্রামে গ্রামে গিয়ে বাঁশ, গাছ, টিন ও নগদ অর্থ সংগ্রহ করে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। পরবর্তীতে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। যেহেতু সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টি গড়ে ওঠছে, তাই ওই কমিটির প্রথম সভায় ড. বদিউল আলম মজুমদার বিদ্যালয়টির নাম ‘গণউদ্যোগ’ রাখার প্রস্তাব করেন, যদিও জোর প্রস্তাব উঠেছিলো প্রতিষ্ঠানটিকে তাঁর নিজের কিংবা তাঁর বাবা-মায়ের নাম করণের। উপস্থিত সদস্যগণ এমন একটি ব্যতিক্রমধর্মী নাম প্রস্তাবের জন্য তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত আকারে গৃহীত হয়।
গণউদ্যোগ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান লক্ষ্য স্থির করা হয় গতানুগতিক গণ্ডিসীমার বাইরে এসে একটি অনন্য ও ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে একে গড়ে তোলা। সে সময় দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় কর্মকর্তা বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণ এবং বিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তিকরণ ও বিদ্যালয় পরিচালনার ব্যাপারে সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখতেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর পরিচালক (কর্মসূচি) নাছিমা আক্তার জলি, গ্লোসি চাকমা ও সাবেক মাধ্যমিক ডিজি ড. আয়েশা খাতুন প্রমুখ। এর মধ্যে গ্লোসি চাকমার স্বামী, যিনি একজন প্রকৌশলী, তিনি সম্পূর্ণ বিনা পারিশ্রমিকে বিদ্যালয়ের মূল ভবনের নকশা প্রণয়ন করেন।
অত্র প্রতিষ্ঠানের সম্মানিত প্রতিষ্ঠাতাগণ হলেন: 1. ড. বদিউল আলম মজুমদার, 2. গোলাম রাব্বানী মজুমদার, 3. প্রয়াত সৈয়দ ওমর আহম্মদ, 4. নুরুল হক মজুমদার, 5. প্রয়াত ছেরাজুল হক মজুমদার।
বিদ্যালয়ের নব অগ্রযাত্রা অন্যতম দাতা সদস্য হিসেবে এগিয়ে আসেন জনাব ড.বদিউল আলম মজুমদার, জনাব তাজিমা হোসেন মজুমদার, জনাব গোলাম রাব্বানী মজুমদার, জনাব আবুল কালাম মজুমদার (পোলইয়া), জনাব সৈয়দ কবির আহম্মদ, মরহুমা জনাবা নাছিমা আক্তার জলি (দি হাঙ্গার প্রজেক্ট), জনাব সৈয়দ ওমর আহম্মদ, জনাব ডা: মো: ইব্রাহিম (এমডি, ঢাকা), জনাব ডা: নুরুল হক, জনাব আব্দুল হক খান, জনাব ইঞ্জিনিয়ার আরিফুর রহমান (তপইয়া), জনাব ড. মাহবুব মুজমদার (পোলইয়া), জনাব আ ব ম খোরশেদ আলম, জনাব আব্দুর রহমান মেম্বার, মরহুম ডা. মাহফুজুর রহমান মজুমদার (পোলইয়া), শহিরা মজুমদার (পোলইয়া), সাবিরা মজুমদার, (পোলইয়া), সামিরা মজুমদার (পোলইয়া), সাফায়েত উল্লাহ মজুমদার (কৃষ্ণপুর)।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনায় অন্যতম ভূমিকা পালনকারী সাবেক সদস্য জনাব মরহুম ডা: গোলাম মোস্তফা (পূর্ব বাতাবাড়িয়া), জনাব আব্দুল জলিল (কৃষ্ণপুর), জনাব ডা: নেছার উদ্দিন আহম্মদ (কৃষ্ণপুর), জনাব ডা: আব্দুর রহমান মেম্বার (হারাখাল), জনাব আমিন খান ভাসানী (হারাখাল), জনাব মো: ইসমাইল (রাজাপুর), জনাব গোলাম কিবরিয়া বাচ্ছু (খিলা), জনাব খোরশেদ আলম (রাজাপুর), জনাব রবিউল হোসেন (মেরকট), মরহুম মিজানুর রহমান টুলু (লুধুয়া), জনাব মাহফুজুর রহমান খোকন (পোলইয়া), মো: ওবায়েদুল হক মজুমদার (মনপাল), মো: সেলিম মিয়া (তপইয়া), ফরিদ উদ্দিন পাশা (নাড়িদিয়া), মো: ওমর ফারুক (খিলা), মো: আবু তাহের (পূর্ব বাতাবাড়িয়া), ডা: আব্দুল কুদ্দুস (উরুকচাইল), মো: আবু ইউসুফ (উরুকচাইল), মো: জাহাঙ্গীর আলম (হারাখাল), মো: আব্দুল কাদের বাদল (হারাখাল),
১৯৯৫ সালে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনার পর ১৯৯৬ সালের ১ জানুয়ারি ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম সফলভাবে শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি নিম্ন মাধ্যমিক স্তরে প্রথম স্বীকৃতি লাভ করে এবং ১৯৯৮ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারি নিম্ন মাধ্যমিক স্তরে এমপিওভুক্ত হয়। ২০০২ সালে মাধ্যমিক স্তরে স্বীকৃতি লাভ করে এবং প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হয় ২০০৪ সালে।
এই ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রথম প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মরহুম জনাব আব্দুল হক খান (01-01-1996
উদাহরণস্বরূপ(অর্জন সমূহ):
• ২০২২, ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৬ সালে গণউদ্যোগ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ উপজেলায় শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।
• ২০২৫ সালে সারাদেশের শ্রেষ্ঠ সাতজন শিক্ষকের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠান প্রধান রণজিৎ চন্দ্র দাশ ‘আইপিডিসি-প্রথম আলো প্রিয় শিক্ষক সম্মাননা ২০২৫’ অর্জন করেন।
• ২০২৬ সালে গণউদ্যোগ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ কুমিল্লা জেলায় শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
• ২০২৬ সালে কলেজের অধ্যক্ষ রণজিৎ চন্দ্র দাশ উপজেলা ও জেলায় শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।
• ২০২৬ সালে অধ্যক্ষ রণজিৎ চন্দ্র দাশ বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান (কলেজ) এবং জাতীয় পর্যায়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।
• গণউদ্যোগ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ বেশ কয়েকবার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী, শ্রেষ্ঠ গার্লস গাইড শিক্ষক, শ্রেষ্ঠ গার্লস গাইড গ্রুপ, শ্রেষ্ঠ গার্লস গাইড শিক্ষার্থী হিসেবে এবং অন্যান্য একস্ট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিতে উপজেলায় শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।
• ২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীরা ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায় জেলা ও অঞ্চল পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে জাতীয় পর্যায়ে উন্নীত হয়।
• সহপাঠক্রমিক কার্যক্রমে উপজেলায় বিভিন্ন ইভেন্টে প্রথম স্থান অর্জন করেছে (২০২২ সালে স্বাধীনতা দিবসে ডিসপ্লেতে প্রথম, কুচকাওয়াজে ২য়, দৌড় প্রতিযোগিতায় ১ম ও ২০২২ সালে বিজয় দিবসে ডিসপ্লেতে প্রথম, কুচকাওয়াজে ১ম, দৌড় প্রতিযোগিতায় ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান এবং 2023 সালে বিজয় দিবসে ডিসপ্লেতে দ্বিতীয়, কুচকাওয়াজে তৃতীয়, দৌড় প্রতিযোগিতায় ১ম ও ২য় স্থান লাভ করেছে।)
বিগত বছরগুলোতে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্য হারে জিপিএ-৫ এবং শতভাগ ফলাফল অর্জন করে আসছে এবং গণউদ্যোগের শিক্ষার্থীরা ঢাকা, জগন্নাথ, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন মেডিকেল কলেজসহ দেশের সেরা প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে।
গ্রামীণ জনপদের পশ্চাৎপদ নারীদের সুশিক্ষার মাধ্যমে মর্যাদাশীল ভবিষ্যৎ নির্মাণ করার প্রত্যয়ে উজ্জীবক ও গণমানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা ‘গণউদ্যোগ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ’ আজ লাকসাম-মনোহরগঞ্জ-নাঙ্গলকোট উপজেলায় এক অনন্য ও দৃষ্টান্ত সৃষ্টিকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।




এ স্কুলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুপরিকল্পিত পাঠ্যক্রম, সহ-পাঠ্যক্রম কর্মসূচির যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক গুণাবলীর সর্বোচ্চ উৎকর্ষ সাধন যাতে তারা সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে এবং ভবিষ্যতে দেশ ও জাতিকে উপযুক্ত নেতৃত্ব দিতে পারে।